সুস্থ থাকতে যেসব সবজি খাবেন | সুস্থ থাকতে খাওয়া দাওয়ায় শাক সবজি - Health Line Tips
তরকারির খোসা ছাড়ালে তরকারির খাদ্যগুণ কমে যায়। খোসা ও খোসার নীচেই আছে শরীরের পক্ষে মূল্যবান ভিটামিন ও খনিজ যার পুষ্টিগুণ ভেতরের শাসের চেয়ে কম নয়। তরকারির ভিটামিন নষ্ট না করবার কয়েকটি উপায় হল—
১। সবজি কেটে নেওয়ার পরে না ধুয়ে সবজি কোটবার আগেই জল দিয়ে ভাল করে ধুয়ে নিন।
২। সবজি কুটে নেওয়ার পর বেশিক্ষণ জলে ভিজিয়ে রাখবেন না।
৩। রান্না করবার খুব বেশিক্ষণ আগে সবজি কুটবেন না।
৪। সবজি খুব পাতলা পাতলা করে টুকরো করবেন না বা কুরুনি দিয়ে কুড়বেন না। সবজি কোটবার পর যাতে বেশি রোদ-হাওয়ার সংস্পর্শে না আসে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
৫। লেটুস পাতা জাতীয় একটি শাক ও দু-তিন রকম তরকারি মিশিয়ে নুন ছাড়া প্যালাড খান পরিবেশনের ঠিক আগেই স্যালাড তৈরি করবেন। যাঁরা সুপাচ্য সাদাসিদে খাবার অর্থাৎ ভাত, ডাল, দুধ, শাক, সবজি খান, যে বাড়িতে কোনো ওষুধপত্র খান না, ধূম পান বা মদ্যপান করেন না তাঁদের বাড়তি কোনো ভিটামিনের পিল বা বড়ি খাওয়ার প্রয়োজনই হয় না। ভিটামিন, খনিজ যা প্রকৃতি থেকে শাক-সবজি, ফল মূল ইত্যাদির মধ্যে পাওয়া যায় সেগুলো বেশি খেয়ে ফেললেও ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার ভয় নেই।
-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
**সুস্থ থাকতে বেগুন**
* কচি বেগুন পুড়িয়ে রোজ সকালে খালি পেটে একটু গুর মিশিয়ে খেলে ম্যালেরিয়ার ঠিক হয় লিভার এর সমস্যা কমে কমে যাই ।
• লিভারের দোষের জন্যে চেহারায় হলদেটে ভাব এলে তা ক্রমশ কমে যায়।
* যাঁদের ঘুম ভাল হয় না তাঁরা যদি একটু বেগুন পোড়ায় মধু মিশিয়ে সন্ধ্যেবেলা চেটে খান তাহলে তাঁদের রাত্তিরে ভাল ঘুম হবে।
* বেগুনের তরকারি, বেগুন পোড়া, বেগুনের স্যূপে রোজ যদি একটু হিং ও রসুন মিশিয়ে খাওয়া যায় তাহলে বায়ুর প্রকোপ তো কমেই যদি কারো পেটে বায়ু গোলকের সৃষ্টি হয়ে থাকে সেটাও কমে যায় বা সেরে যায়।
* মহিলাদের অনিয়মিত ঋতু না হলে বা কোনো কারণে বন্ধ হয়ে গেলে তাঁরা যদি শীতকালে নিয়ম করে বেগুনের তরকারি বাজরার রুটি এবং গুড় খান তাহলে উপকার পাবেন। অবশ্য যাঁদের শরীরে গরমের ধাত বেশি তাঁদের পক্ষে এটা না খাওয়াই ভাল।
• নিয়মিত বেগুন খেলে মূত্রকৃচ্ছতা সারে। প্রস্রাব পরিষ্কার হওয়ার প্রারম্ভিক অবস্থায় কিডনির ছোট পাথরও গলে গিয়ে প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যায়।
* মুরগির ডিমের সাইজের ছোট গোল সাদা বেগুন অর্শের পক্ষে উপকারী। বেগুনের পুলটিস বাঁধলে ফোড়া তাড়াতাড়ি পেকে যায়।
• বেগুনের রস খেলে ধতুরার বিষ নেমে যায়।
**সুস্থ থাকতে পটোল**
১) পটোলের তরকারি খেলে হজম করবার ক্ষমতা বেড়ে যায়।
২) কাশি, জ্বর ও রক্তের দোষ অর্থাৎ রক্তবিকার সারে।
৩) এর রস মাথায় লাগলে টাক পড়া বন্ধ হয় ও মাথায় নতুন চুল গজায়।
৪)পটোলের গুণ : সাধারণ পটোল সহজে হজম হয় এবং অন্য খাবার হজমে সাহায্য করে।
৪) পটল হার্টের পক্ষে ভাল, লঘুপাক, খিদে বাড়ায়, শরীর স্নিগ্ধ করে । কাশি, রক্তবিকার, শ্লেষ্মা বাত ও পিত্ত, জ্বর ও কৃমি সারিয়ে তোলে।
রোগ সারাতে পটোল
১। এলাচ দারচিনি ও লবঙ্গের গুঁড়ো মিশিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে।
২। তেতো পটোলের ক্বাথ তৈরি করে মধু মিশিয়ে খেলে পিত্তজ্বর সারে, তৃষ্ণা নিবারণ হয় আর শরীর জ্বালা কমে।
৩। তেতো পটোলের শিকড় সেদ্ধ করে সেই জল চিনি মিশিয়ে খাওয়ালেও পিত্তজুরে উপকার হয়।
৪। ১০ গ্রাম ওজনের তেতো পলতা, ১০ গ্রাম ধনে এক রাত এক কাপ জলে ভিজিয়ে রাখুন। সকালবেলা এই জল ছেঁকে নিয়ে মধু মিশিয়ে দিয়ে তিনবার খান— সমস্ত কৃমি নাশ হবে।
৫। পটোল খেলে ত্বকের রোগেও লাভ হয়। তেতো পটোল ও তেতো নিম পাতার ক্বাথ দিয়ে ফোড়া ধুয়ে নিলে তাড়াতাড়ি সেরে যায়।
৬। তেতো পটোলের পলতা পাতার রস টাকের পক্ষে উপকারী।
**সুস্থ থাকতে চালকুমড়ো**
কুমড়ো বা চাল কুমড়ো খেলে পরিশ্রম করবার ক্ষমতা বেড়ে শরীর পুষ্ট হয়।
* এই সবজি বলকারক, পুষ্টিকর, ফুসফুসও ভাল রাখে। । কৃমি নাশ করে।
• দু-চার চামচ চাল কুমড়োর রস বের করে নিয়ে তাতে চিনি মিশিয়ে খেলে অম্বল বা অজীর্ণ রোগ সারে।
• মৃগী ও উন্মাদ রোগের পক্ষেও এটি উপকারী। চাল কুমড়োর রস একটু চিনি ও জাফরানের সঙ্গে পিষে খেলে এই সব রোগে উপকার পাওয়া যায়। → কোনো কোনো চিকিৎসকের মতে যক্ষ্মা, অর্শ, গ্রহণী (একটানা পেটের অসুখ) প্রভৃতি অসুখেও চালকুমড়ো খেলে উপকার হয়।
• ডায়বেটিসে চালকুমড়োর রস খাওয়া অতি হিতকর। চাল কুমড়োর মোরব্বা, হালুয়া, অবলেহ ও চাল কুমড়োর বীজের লাড্ডু অনেক রোগ সারিয়ে তোলে। মূলো কাজে উৎসাহ বাড়ায় মূলো প্রতিদিনের আটপৌরে সস্তা তরকারি। সস্তা ও সুলভ বলেই কিন্তু হলাফেলার নয়—মূলোর অনেক গুণ, অনেক রোগ সারাবার ক্ষমতা রয়েছে।
** সুস্থ থাকতে মূলো**
(ক) ভাত, রুটি খাওয়ার সঙ্গে মূলো নুন দিয়ে খেলে রুচি বাড়ে।
(খ) কচি মূলোর স্যালাড খেলে খিদে বেড়ে যায়।
(গ) মূলোর মধ্যে আছে জ্বর সারাবার গুণ।
(ঘ) পিলের রোগে পরম উপাকারী।
(ঙ) শীতকালে কাঁচা মূলো খেলে কাজে উৎসাহ বাড়ে, খাবার সহজে হজ হয় এবং শরীরের পুষ্টি হয়।
(চ) মূলোর শাক বেশি মাত্রায় খেলে প্রস্রাব ও মল পরিষ্কার হয়ে গিয়ে শরীরের গ্লানি বেরিয়ে যায়।
(ছ) অর্শ রোগীরা মূলোর পাতা (শাক) বা মূলো শাকের রস খেলে উপকা পাবেন।
(জ) মূলোর চেয়ে মূলোর শাকেরই গুণ বেশি। মূলোর শাক সহজে হজম হয় ও খাওয়া দাওয়ায় রুচি বাড়ায়।
(ঝ) মূলোর শাক কাঁচা খেলে পিত্ত বৃদ্ধি পায় কিন্তু ঘিয়ে বা তেলে সাঁতলে নিয়ে শাক রান্না করে খেলে শরীরের পক্ষে সব দিক থেকে উপকারী।
মূলোর আরোগ্য গুণ
১। শুকনো মূলোর ঝোল রান্না করে এক ঘণ্টা অন্তর আধকাপ করে গরম গরম পান করালে খিঁচুনি সারে।
২। দুপুর বা রাত্তিরের গুরু-পাক ভোজনের পরে মূলোর রসে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে খেলে পেটের ব্যথা ও গ্যাস কমে যায়।
৩। মূলো আর তিল একসঙ্গে মিশিয়ে খেলে শরীর ফোলা কমে আর যদি ত্বকের নিচে কোনো কারণে জল জমে তাও সেরে যায়। মূলোর পাতার ৫/৬ চামচ র খাওয়ালেও ফুলো তাড়াতাড়ি কমে যায়।
৪। শুকনো মূলোর স্যুপ খাওয়ালে এবং শুকনো মূলো একটা কাপড়ের পুঁটলিজে বেঁধে তার সেঁক দিলেও অর্শের কষ্টে আরাম পাওয়া যায়।
৫। মূলো পাতার রসে একটু সোডি-বাই-কার্ব মিশিয়ে খাওয়ালে প্রস্রাব পরিষ্কার হয় এবং কোন কারণে প্রস্রাব জমে থাকার কষ্ট (মূত্রাবরোধ) দূর হয়। মূলো পাতার রসে সোরা মিশিয়ে খাওয়ালে পাথরি সারে। ৮ চা চামচ মূলোর বীজ লিটা জলে ফুটিয়ে নিয়ে জল কমে অর্ধেক হয়ে গেলে সেই জল পান করালেও পার্থ রোগ (কিডনি বা গলব্লাডারে পাথর হওয়া) সারে।
***নানা রোগ সারাতে অব্যর্থ ডুমুর**
১। ডুমুর পিত্ত ও আমাশার অসুখ সারিয়ে দেয়।
২। ডুমুরে যথেষ্ট লোহা থাকায় রক্তপিত্ত (স্কার্ভি), রক্তপ্রদর, রক্তপড়া অর্শ,
রক্তস্রাব ও রক্তহীনতা (অ্যানিমিয়া) রোগে উপকারী।
৩। কচি ডুমুরের রসে মিছরি মিশিয়ে দিনে দুবার (১চা ডুমুরের রস + অর্ধ চা চামচ মিছরি গুঁড়ো) খেলে মুখ থেকে রক্ত ওঠা বন্ধ হয়। তিন দিন এইভাবে ডুমুরের রস খেতে হবে।
৪। আমাশা রোগে ডুমুর পাতার একটি কুঁড়ি আতপ চালের সঙ্গে চিবিয়ে খেলে রোগের উপশম হয়। এইভাবে তিনদিন খেলে উপকার পাওয়া যাবে।
৫। ডুমুর গাছের ছাল থেঁতো করে মিছরির পানায় মিশিয়ে ভাল করে চটকে o হেঁকে খেতে হবে। প্রতিদিন ২ বেলা ২ চা চামচ করে একটু চিনি মিশিয়ে খেলে দা আমাশা ও রক্ত আমাশা সারবে। ৬। যদি মাথা ঘোরে তাহলে ভাতের পাতে প্রথমে এক চা চামচ দুর্বা ঘাস ভাজা খেয়ে তার পরে বীজ বাদ দিয়ে ডুমুর ভাজা খেলে উপকার হয়।
৭। যজ্ঞ ডুমুরের রস মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে মেয়েদের প্রদর রোগ সারে।
**সুস্থ থাকতে করোলা**
১। করোলার পাতা মূত্র বৃদ্ধি করে, জ্বর সারায় ও কৃমি নাশ করে। ওষুধ হিসেবে ওর অনেক গুণ আছে।
২। বিখ্যাত প্রাচীন বৈদ্য সুশ্রুতের মতে করোলার পাতা জোলাপের কাজ করে এবং প্রয়োজনে বমিও করায়।
৩। করোলা পাতার রস নুন মিশিয়ে খাওয়ালে পিত্তের বিষ, বমন ও মলত্যাগ দ্বারা বেরিয়ে যায়।
৪। ম্যালেরিয়ায় করোলা পাতার রস শরীরে লাগালে এবং সাড়ে তিনটি করোলার পাতা ও সাড়ে তিনটি আস্ত গোলমরিচ একসঙ্গে পিষে নিয়ম করে খেলে উপকার ওয়া যায়।
৫। করোলার ফুল বা পাতা ঘিয়ে ভেজে বা কাচাই নুন মিশিয়ে খেলে অম্লপিত্তের নো যদি ভাত খাওয়ার পরই বমি হয়ে যায় তাহলে তার নিবারণ হয়। । তিনটি করোলার বিচি ও তিনটি গোলমরিচ একসঙ্গে অল্প জল দিয়ে পিষে ওয়ালে বাচ্চাদের বমি বন্ধ হয়। । দশ চা চামচ করোলা পাতার রসে একটু হিং মিশিয়ে খাওয়ালে প্রস্রাব উদ্ধার হয়ে যায়। কোনো কারণে প্রস্রাব বন্ধ হয়ে গেলে এটা ওষুধ হিসেবে গ করা যায়।
৮। কচি করোলা টুকরো করে কেটে ছায়ায় শুকিয়ে নিয়ে মিহি করে পিষে চার মাস ধরে সকালে ও সন্ধ্যেবেলায় নিয়মিত দু চা চামচ করে চূর্ণ খেলে ডায়বেটিস নিশ্চয় সারবে। সেইসঙ্গে অবশ্য ডায়বেটিসের খাওয়া-দাওয়ারও বিধি নিষেধ নেনে চলতে হবে। এইভাবে করোলা -চূর্ণ খেলে প্রস্রাবের সঙ্গে শর্করা বা চিনি বেরোনো একবারেই বন্ধ হয়ে যাবে।
৯। করোলার রস এক চা চামচ নিয়ে তাতে অল্প চিনি মিশিয়ে নিয়মিত খেলো অর্শ ও অর্শ থেকে রক্ত পড়া বন্ধ হয়।
** সুস্থ থাকতে কাঁচকলা ও কলাগাছ**
১। পেটের অসুখে, আমাশয় ও রক্ত আমাশায় কাঁচকলা সেদ্ধ করে টাটকা টক দইয়ের সঙ্গে মেখে খেলে রোগ সারে।
২। কলা গাছের শুকনো শেকড় গুঁড়ো করে অল্প পরিমাণে খেলে পিত্ত রোগ সারে। রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া রোগেরও এটি একটি মহৌষধ ।
৩। অনেকের মতে কলা গাছের শেকড়ের রসের সঙ্গে ঘি ও চিনি মিশিয়ে খেলো প্রস্রাবের অসুখ বা মেহ রোগ সারে।
৪। কাঁচকলা শুকিয়ে গুঁড়ো করে প্রতিদিন অল্প পরিমাণে দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে যৌন ব্যাধি সারে ও প্রস্রাবের অসুখ সারে।
৫। একেবারে কচি কলাপাতা মিহি করে বেটে দুধে মিশিয়ে ঘন ক্ষীরের মতে করে খাওয়ালে মেয়েদের প্রদর রোগে উপকার হয়।

.jpg)



.png)
.png)
.png)
.png)